জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে জ্যোতিষ /Astrology
কয়েক বছর আগের ঘটনা ।আমরা কয়েকজন একসঙ্গে রোজ যাতায়াত করি। বলতে পারেন একটা গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে। কেউ কোনদিন না এলে খোঁজ নেয়া হয়। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যে যার কর্মস্থলের দিকে যাত্রা করে। এমনই গত দুদিন ধরে আমাদের এক সঙ্গীকে আস্তে দেখা যাচ্ছিল না। সবাই আলোচনা তাকে নিয়ে এবং কি কারনে আসছিল না সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছিল। আমি যে জ্যোতিষ চর্চা করি তা প্রায়ই সকলে জানে। হঠাৎই তাদের মধ্যে একজন আমাকে দেখিয়ে বলে উঠলো উনি তো জ্যোতিষ ।
বলুন তো আমাদের সঙ্গী সোমনাথ বাবু কেন আসছেন না ।আমি এতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটা খুব গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু বলাতে অগত্যা আমি কয়েক সেকেন্ড সময় চেয়ে নিলাম ।এবং চিন্তা করে জোড়ের সঙ্গেই বললাম সোমনাথ বাবু ছেলের শিক্ষার ব্যাপারে সমস্যায় আছেন। এবং সেই কারণেই উনি গত দুদিন আসতে পারছেন না। এই কথা বলাতে সবাই আমার কথাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিল।
এবং বলল কেউ ফোন করবে না আগামী কাল সোমনাথ বাবু এলে ব্যাপারটা ওনাকে জিজ্ঞাসা করে প্রমাণ নেওয়া যাবে।
যথারীতি পরের দিন আমি যাবার আগেই দেখি প্রায় সকলে এসে গেছে এবং আমি দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি যে আমাকে হাত নারা হচ্ছে। আমি বুঝলাম গতকালের ব্যাপারটা নিয়ে ওনারা খুবই উচ্ছ্বসিত। কাছে যেতে সকলে আমার কাছে এসে করমর্দন করল এবং দেখি সোমনাথ বাবুর মুখটিও খুবই উল্লসিত। এরপর সকলে জিজ্ঞাসা করল যে আপনি কি করে জন্মছক না দেখে বললেন যে সোমনাথবাবুর ছেলে শিক্ষার সমস্যার জন্য গত দুদিন ধরে আসছিলেন না।
আমি তাদের বলি এটা তাৎক্ষণিক জ্যোতিষ। যার সাহায্যে একটি বা দুটি প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দেয়া সম্ভব জন্ম ছক না দেখে। আমি কারণটি ওনাদের এইভাবে বোঝাবার চেষ্টা করলাম।
যে সময় এই প্রশ্নটা করা হয় তখন কর্কট লগ্ন চলছিল ।দ্বিতীয় ঘর সিংহ রাশি, তৃতীয় ঘর কন্যা রাশি, চতুর্থ ঘর তুলা রাশি সেখানে শনি ও রাহু ,পঞ্চম ঘরে চন্দ্র অনুরাধা নক্ষত্রে অর্থাৎ শনির নক্ষত্রে , ষষ্ঠ ঘর ধনু রাশি ,সপ্তম ঘর মকর রাশি, অষ্টম ঘর কুম্ভ রাশি, নবমঘর মীন, দশম ঘর মেষ রাশি, একাদশ ঘর বৃষ রাশি ওখানে রবি অবস্থিত ও দ্বাদশ ঘর মিথুন রাশি। এই ছিল ওই সময়ের গোচর বা ট্রানজিট।
লগ্ন সাপেক্ষে চন্দ্র পঞ্চমে বৃশ্চিক রাশিতে শনির নক্ষত্র অর্থাৎ অনুরাধা নক্ষত্র এ।শনি সপ্তম ও অষ্টম পতি হয়ে চতুর্থ স্থানে তুলা রাশিতে অবস্থান করছে রাহুর সঙ্গে। যেহেতু লগ্ন সাপেক্ষে ওইদিনের শনির নক্ষত্র সরাসরি যুক্ত পঞ্চম ঘরের সঙ্গে প্রথমেই মনে হয়েছে ঘটনাটি সন্তানকে নিয়ে কেননা পঞ্চম ভাব সন্তান নির্দেশ করে। শনি সপ্তম অষ্টম পতি হয়ে চতুর্থে আসীন যা পঞ্চম সাপেক্ষে দ্বাদশ স্থান। যেহেতু চতুর্থ স্থান শিক্ষা নির্দেশ করে অতএব সন্তান কে নিয়ে সমস্যা শিক্ষার ।আবার শনি ও রাহু যুক্ত হয়ে চতুর্থ ঘরটিকে খুবই ডিস্টার্ব করছে, যার জন্য সমস্যাটি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে ।আমার সকল বন্ধুরা এই বিশ্লেষণ শুনে অবাক হন এবং জ্যোতিষ যে আমাদের প্রত্যেক মুহূর্তের সঙ্গী তা বোঝেন ।আর একটি কথা বলি যেহেতু ওই দিন নক্ষত্র প্রতি শনি যা কিনা আমার ছকের তৃতীয় এ অবস্থিত সেই জন্য আমার মনের দীর্ঘতা ও বেশি মাত্রায় ছিল কারণ তৃতীয় ভাব মনের সাহস যোগায়। এবং চন্দ্রের সপ্তম দৃষ্টি একাদশ ভাবে পড়াতে সাফল্যও দিলো।

পথ চলতে জ্যোতিষ
কয়েক বছর আগেকার কথা ।আমি একটু রাত্রের দিকে লোকাল ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলাম ।আমার এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলো। উনি এবং আমি সামনাসামনি বসে কথা বলতে বলতে আসছিলাম। কথায় কথায় উনি বললেন গত কয়েকদিন আগে উনার বাড়ি থেকে ৮-১০ হাজার টাকা চুরি গেছে, ঘরের মধ্যে ব্যাগে ছিল টেবিলের ওপর ।পরের দিন মানিব্যাগ খুলে দেখেন টাকা নেই জিজ্ঞাসা করলেন আমি কিছু সাহায্য করতে পারবো কিনা আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার ল্যাপটপ খুলি ও রুলিং প্ল্যানেট অর্থাৎ ওই সময়ের গ্রহণক্ষত্রের অবস্থা কি তা দেখে নিই।তারিখটি ছিল 7 আগস্ট ২০১৩ রাত্রি ৮:৪৫ মিনিট, লিলুয়া।
দিনটি ছিল বুধবার অর্থাৎ গ্রহ নির্দেশক বুধ। চন্দ্রের অবস্থান কর্কট রাশি গ্রহ নির্দেশক চন্দ্র। ছন্দের নক্ষত্রের অবস্থান অশ্লেষা নির্দেশক বুধ ।চন্দ্রের নক্ষত্রের সা বলট শনি ।লগ্নের অবস্থান মীন রাশি গ্রহনির্দেশক বৃহস্পতি লগ্নে নক্ষত্রের অবস্থান উত্তরভাদ্রপদ নির্দেশক শনি। লগ্নের নক্ষত্রের সা বলোর্ড রবি।
ওই ভদ্রলোককে তৎক্ষণাৎ ১ থেকে ২৪৯ এর মধ্যে একটি সংখ্যা বলতে বলি যেহেতু রাশিচক্র কে ২৪৯ টি সাবলর্ড এ ভাগ করা হয় ।উনি উত্তর দেন নয়। সাবলর্ড এর নয় সংখ্যা নির্দেশ করে মঙ্গল কেতু ও বুধ কে।
গুলবার্গের সূত্র অনুসারে প্রশ্নকর্তার সংখ্যার সাব লর্ড যদি লগ্নের অথবা চন্দ্রের সাব লর্ড হয় তবে প্রশ্নকর্তার প্রশ্নটি কে সঠিক ধরা হয় না হলে বেঠিক।
এখানে নয় সংখ্যার সাব লর্ড বুধ এবং চন্দ্রের সব লর্ড বুধ ও ওই দিনটি ও ছিল বুধবার। অতএব সূত্র অনুসারে সব শর্ত পূরণ হচ্ছে। এবং বললাম আপনি আপনার টাকা ফেরত পাবেন তবে একটু দেরিতে এটা বলার কারণ চন্দ্রের সাবলর্ড ও শনি এবং লগ্নের সাব লর্ড ও শনি। শনি সবকিছু দেরি করে বোঝায়। আবার যেহেতু চন্দ্রের সাব লর্ড শনি ছিল আমি জানতাম উনি কিছুটা যাচাই করতেও আমাকে এই প্রশ্নটা করেছেন।
এর কয়েকদিন পরে ১১ আগস্ট ২০১৩ রাত্রে ওই ভদ্রলোক আমাকে ফোন করে জানান তার ওই টাকা পাওয়া গেছে। বাড়ির অল্পবয়সের একটি ভৃত ওই টাকা নিয়েছিল এবং তাকে চেপে ধরাতে টাকা ফেরত দেয়। এখানে বলে রাখা ভালো যেহেতু রুলিং প্ল্যানেট এ দুইবার করে বুধ ও শনি এসেছিল এবং বুধ যেহেতু বালক এবং শনি ভৃত্য কে বোঝায় যে ব্যক্তি চুরি করেছিল সে অল্পবয়সী কাজের লোক তা প্রমাণ পাওয়া গেল।
